"আম আঁটির ভেঁপু”-র কিছু অংশঃ
তিন. গ্রীষ্ম-দুপুর
অপুদের বাড়ি হইতে কিছুদূরে একটা খুব বড় অশ্বথগাছ ছিল। কেবল তাহার মাথাটা উহাদের দালানের জানালা কি রোয়াক হইতে দেখা যায়। অপু মাঝে মাঝে সেইদিকে চাহিয়া চাহিয়া দেখিত। যতবার সে চাহিয়া দেখে, ততবার তাহার যেন অনেক-অনেক-অনেক-দূরের কোনো দেশের কথা মনে হয়। কোন্ দেশ এ তাহার ঠিক ধারণা হইত না–কোথায় যেন কোথাকার দেশ—মায়ের মুখে ঐসব দেশের রাজপুত্তুরদের কথাই সে শোনে ৷
অনেক দূরের কথায় তাহার শিশুমনে একটা বিস্ময়-মাখানো আনন্দভাবের সৃষ্টি করিত। এবং সর্বাপেক্ষা কৌতুকের বিষয় এই যে, অনেক দূরের এই কল্পনা যখন তাহার মনকে অত্যন্ত চাপিয়া যেন কোথয়া লইয়া গিয়া ফেলিয়াছে, ঠিক সেই সময় মায়ের জন্য তাহার মন বড় কেমন করিয়া উঠিত; হঠাৎ তাহার মনে হইত যেখানে সে যাইতেছে সেখানে তাহার মা নাই, অমনি মায়ের কাছে যাইবার জন্য মন আকুল হইয়া পড়িত। কতবার যে এরকম হইয়াছে।... আকাশের গায়ে অনেক দূরে একটা চিল উড়িয়া যাইতেছে—ক্ৰমে ছোট্ট-ছোট্ট- আরও ছোট্ট হইয়া নীলুদের তালগাছের উঁচু মাথাটা পিছনে ফেলিয়া দূর আকাশে মিলাইয়া যাইতেছে।
চাহিয়া দেখিতে-দেখিতে যেমন উড়ন্ত চিলটা দৃষ্টিপথের বাহির হইয়া যাইত, অমনি সে চোখ নামাইয়া লইয়া বাহির-বাড়ি হইতে একদৌড়ে রান্নাঘরের দাওয়ায় উঠিয়া গৃহকার্যরত মাকে জড়াইয়া ধরিত। মা বলিত— দ্যাখো দ্যাখো ছেলের কাণ্ড দ্যাখো! ছাড়-ছাড় দেখচিস্ সক্ড়ি হাত?... ছাড়ো মানিক আমার, সোনা আমার! তোমার জন্যে এই দ্যাখো চিংড়ি মাছ ভাজচি- তুমি যে চিংড়ি মাছ ভাজা ভালোবাসো? হ্যাঁ দুষ্টুমি কোরো না- ছাড়ো-...