পরিপূর্ণ ঈমানঃ পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি কাউকে কোন কিছু দিলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই দেয়, কাউকে কিছু দেয়া থেকে বিরত থাকলে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্যই বিরত থাকে এবং কাউকে ভালোবাসলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসে; আবার কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই বিদ্বেষ পোষণ করে তাহলে বুঝতে হবে তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করেছে।
হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদীসে চারটি নিদর্শনের ভিত্তিতে ঈমানের পূর্ণতার কথা ঘোষণা করেছেন। পরিপূর্ণ ঈমানের এই চারটি নিদর্শন হলো-
প্ৰথম নিদর্শন
হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিপূর্ণ ঈমানের প্রথম নিদর্শন হিসেবে ইরশাদ করেছেন- সে যদি কাউকে কোন কিছু দেয় তাহলে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই দেয়। একথার মর্ম হলো, পরিপূর্ণ ঈমানদার সেই ব্যক্তি যে কোথাও কোন কিছু খরচ করার সুযোগ পেলে আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে খরচ করে। খরচ করার ক্ষেত্রে তার নিয়ত থাকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন। এমনিতে মানুষ নিজের জন্যে খরচ করে, নিজের পরিবার-পরিজনের জন্যে খরচ করে, খরচ করে দান-খয়রাতসহ নানাবিধ কল্যাণকর্মে। কিন্তু এই খরচ করার সময় তার উদ্দেশ্য হয় আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন। দান-সদকার ক্ষেত্রে তো সকলেই জানি, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যেই দান-সদকা করতে হয় । দান-সদকা করার সময় মনে মনে অবশ্যই ভাবতে হয়- আমি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যই এই অর্থ ব্যয় করছি। নিশ্চয়ই তিনি অনুগ্রহপূর্বক এর প্রতিদান দিবেন। এখানে দান-সদকা করে বলে বেড়ানো এবং মানুষকে দেখানো মোটেও উদ্দেশ্য নয়। যদি উদ্দেশ্য হয় তখন আর আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার কথা থাকবে না ।...